সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের দাবি, দণ্ডপ্রাপ্তরা কেউই অসাধু ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট সদস্য কিংবা তেল ডিপোর মৌজুদকারি নন। তাদের মতে, ধোপাগুল স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী উসমান, তার ছোট ভাই জাকির হোসেন এবং হাফিজ মাওলানা লাহিন আহমদ এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সম্মানিত ব্যক্তি।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের নিজেদের একাধিক ডিজেলচালিত গাড়ি রয়েছে। বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে তারা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু তেল আগে থেকেই সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। তাদের ভাষ্য, ৩–৪ ড্রাম তেল কোনো ব্যবসায়ীর কাছে থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
স্থানীয়দের আরও দাবি, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে এবং কেউ প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। পবিত্র রমজান মাসে এভাবে সম্মানিত ব্যক্তিদের দণ্ডিত হওয়ায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ঘটনার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান স্থানীয়রা এবং দ্রুত আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনার পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবিও জানান তারা।
খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাজী উসমান, জাকির হোসেন ও মাওলানা লাহিন আহমদ এলাকায় সনামধন্য ব্যবসায়ী ব্যক্তি। তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা- বানিজ্য করছেন এবং তাদের নিজস্ব গাড়ি ও ক্রাশার মিল রয়েছে। তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় হয়তো তারা কিছু তেল মজুদ করে রেখেছিলেন। মোবাইল কোর্ট এসে তাদের জেল ও জরিমানা করেছে। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বিবেচনা করা দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ট্রান্সপোর্ট সমিতির সভাপতি মুহিবুর রহমান সুলেমান, বিশিষ্ট মুরব্বী কামাল মিয়া, পাথর ব্যবসায়ী সালেহ আহমদ শাহনাজ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষানুরাগী আমিনুর রহমান, মহালদিক গ্রামের ইউনুস মিয়া, যুব সংগঠক সালাউদ্দিন ইমরান, রাজন আহমদ রাজু, ফরিদ উদ্দিন, তুহিন আহমদ রানা, মাছুম আহমদ ফয়জুর রহমান, নাহিদুর রহমান মাসুক, রুমেল আহমদ ও রায়হান আহমদসহ স্থানীয় ও অন্যান্য এলাকার লোকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলের অনেকেই একই ধরনেরমত প্রকাশ করেন এবং এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি মনে করেন।